কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ এ ০৭:১৪ PM

গ্রামীণ মহিলাদের মাঝে কাঙ্খিত গর্ভধারণ এবং জন্মনিরোধক এর ব্যবহার

কন্টেন্ট: পাতা

ইশরাত লুসি, সেভ দ্য চিলড্রেন

Author Email: isratlucy@yahoo.com

 

বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ যেহেতু গ্রামে বাস করে তাই নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে গ্রামীণ মহিলাদের কাঙ্খিত সন্তানের সংখ্যা এবং জন্মনিরোধক গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০১৭ সালে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ২৮২ জন বিবাহিত এবং প্রজননক্ষম মহিলাদের মাঝে একটি ক্রস সেকশনাল (এককালীন) গবেষণা চালানো হয়, তারা মোট কতগুলো সন্তানের মা হতে চান এই বিষয়টি জানার উদ্দেশ্যে। উদ্দেশ্যপূর্ণ পন্থায় গবেষণায় অংশগ্রহনকারীদের নির্বাচিত করে একটি  আংশিক কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। তাদের মাঝে ৮২% ছিলেন মুসলিম এবং সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিত্ব মূলক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। গড়পড়তায় তাদের বয়স ছিল ২৫.৯ ক্ট ৫.৩ বছর এবং মাসিক আয় ছিল বাংলাদেশী টাকায় ১৩৭৫১/-। অংশ গ্রহণকারীদের মাঝে ২৫% ছিলেন নিরক্ষর এবং ১৪% ছিলেন দশম শ্রেণী উত্তীর্ণ, ৮০% ছিলেন গৃহবধূ আর ১২% মহিলা ঘরের বাইরে কাজ করতেন।

অংশগ্রহণকারীদের মাঝে অর্ধেকই মুখে খাবার জন্মনিরোধক বড়ি গ্রহণ করতেন আর এক চতুর্থাংশ মহিলা ইঞ্জেকশন গ্রহণ করতেন। খুব কম সংখ্যকই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। ১৫ থেকে ২৪ বছরের স্বল্পবয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে সময়ের সাথে সাথে তাদের পছন্দের পরিবর্তন ঘটেছিল, তারা আরও সন্তান নিতে চাইছিলেন কিন্তু ৩৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে উল্টো, তারা তাদের সন্তান সংখ্যা সীমিত রাখতে চেয়েছিলেন। সন্তান সংখ্যা সীমিত রাখার ক্ষেত্রে আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের একটি সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল। যেসব মহিলারা অধিক সংখ্যক সন্তান লাভে আগ্রহী ছিলেন তাদের সাথে জীবিত সন্তানের সংখ্যার অনুপাত কম ছিল। প্রতি চারজন মহিলার মাঝে ৩ জন যাদের একটি জীবিত সন্তান ছিল তারা আরও সন্তানলাভে আগ্রহী ছিলেন। যাদের ২টি জীবিত সন্তান ছিল তাদের আরও সন্তান লাভের চাহিদা ১৫% নেমে এসেছিল। 

জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি পছন্দ ও পরিবর্তনের ভিন্ন কারণ পাওয়া গিয়েছিল। তথাপি মহিলাদের সন্তান জন্মদানের ইচ্ছার ওপরেই আসলে তাদের জন্মনিরোধক ব্যাবহারের ধরণ নির্ভর করে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার চাইছে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিগুলোকে জনপ্রিয় করে তুলতে। এই ব্যবহারের ধরণও গ্রামীণ মহিলাদের সন্তান জন্মদানের হারকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই নীতি প্রণয়নকারীদের জন্য কাঙ্খিত সাফল্য লাভের উদ্দেশ্যে নতুন কৌশল উদ্ভাবন কার্যকরী হতে পারে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন