কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫ এ ০৩:২৯ AM

মেলিওডোসিসঃ একটি চরম অবহেলিত গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগ

কন্টেন্ট: পাতা

মোঃ শরিফুল আলম জিলানী, সাইকা ফারুক, ফাহমিদা রহমান;

মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্ট, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

 

ভারতীয় ব্যাকটিরিওলজিস্ট সি. এস. কৃষ্ণস্বামী এবং ব্রিটিশ প্যাথলজিস্ট আলফ্রেড হুইটমোর ১৯১১ সালে বার্মিজ মরফিন আসক্তদের মধ্যে 'গ্রন্থির মত রোগ' এর কারণ হিসেবে ব্যাসিলাস সিউডোম্যালেই ব্যাকটেরিয়াটি প্রথম শনাক্ত করেন, যা একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। বর্তমানে এই জীবাণুটি বুরখোল্ডেরিয়া সিউডোম্যালেই (বি. সিউডোম্যালেই) নামে পরিচিত এবং “মেলিওডোসিস“ রোগের জন্য দায়ী। বি. সিউডোম্যালেই একটি স্যাপ্রোফাইট, যা পরিবেশে ছড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে ধানক্ষেত, মাটি এবং পানির স্থির পৃষ্ঠতল এবং রাইজোস্ফিয়ার উদ্ভিদে এটি বিস্তৃত। জীবাণুটি অক্সিজেন নির্ভর, গতিশীল, অনুষঙ্গী আন্তঃকোষীয় গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া যা মানুষ এবং প্রাণী উভয়কেই আক্রান্ত করে।

 

এই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে নিউমোনিয়া, একাধিক ফোড়া এবং সেপটিসেমিয়ার মত লক্ষণ দেখা দেয় যার মাঝে মৃত্যু ঝুঁকিও রয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়াটি বেশিরভাগ অ্যান্টিবায়টিক প্রতিরোধী। এই সকল অকার্যকর অ্যান্টিবায়টিক দিয়ে চিকিৎসা করায় মৃত্যুর হার ৭০% ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি একটি রিগ্রেশন মডেলের মাধ্যমে অনুমান করা হয়েছে যে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬৫,০০০ মানুষের মেলিওডোসিস কেস ছিল (প্রতি বছর ঝুঁকিতে ৫/১০০,০০০ জন) যার ফলে ৮৯,০০০ (৫৪%) মানুষ মারা যায়। এই মডেলটি ব্যাবহার করে বাংলাদেশে বছরে ১৬,৯৩১ কেসের পূর্বাভাস পাওয়া যায়, যার  মাঝে ৯,৫০০ (৫৬%) জন মারা যায়। এটি বিশ্বের অনেক গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলের একটি স্থানীয় রোগ। বি. সিউডোম্যালেইয়ের পরিবেশগত বন্টন বেশিরভাগই নিরক্ষরেখার ২০ ডিগ্রী উত্তর এবং ২০ ডিগ্রী দক্ষিণে সীমাবদ্ধ, যেখানে জলবায়ু পরিস্থিতি এই জীবাণুর বংশবিস্তারের জন্য খুবই উপযোগী। তুলনামূলকভাবে উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত এর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে। বেশিরভাগ অঞ্চলে এটি একটি মৌসুমী রোগ এবং বর্ষাকালে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পায়।

 

মেলিওডোসিস প্রাথমিকভাবে এমন ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে যারা মাটি এবং পানির সাথে নিয়মিত সংস্পর্শে থাকে। অবিরাম বন্যা এবং জলাবদ্ধতার কারনে ধানের ক্ষেতে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত একটি স্থান তৈরি করে, যা ধানক্ষেতের কৃষকদের মেলিওডোসিস দ্বারা আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলে। একজন ব্যাক্তির ত্বকে কোনো ক্ষত থাকলে, সেখানে মেলিওডোসিস জীবাণু সম্বৃদ্ধ মাটি বা পানির সংস্পর্শ দ্বারা সংক্রমিত হয়। ত্বকের সংস্পর্শে আসলে পুঁজভর্তি ত্বকের সংক্রমণ দেখা দেয়, যার সাথে শরীরের বিভিন্ন  অঙ্গে লিম্ফ্যাডেনাইটিস ও ফোড়া দেখা দেয় এবং জ্বর আসে। বিভিন্ন মহামারী থেকে প্রমাণিত যে, ভারী বৃষ্টিপাত এবং তীব্র বাতাসের পরে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে পালমোনারি মেলিওডোসিস হতে পারে। সারা বছর ধরেই এই রোগের বিস্তার হয়, তবে সর্বাধিক (৭৫%) বর্ষাকালে ঘটে। বি. সিউডোম্যালেই দ্বারা দূষিত খাবার বা পানীয় গ্রহণের মাধ্যমে মানুষ মেলিওডোসিস রোগে আক্রান্ত হতে পারে, এমনকি এর প্রাদুর্ভাবও ঘটতে পারে। যদিও বিরল, তবে ভার্টিকাল (জন্মগত) সংক্রমণ, যৌন সংক্রমণ, মেলিওডোসিস আক্রান্ত প্রাণী থেকে জুনোটিক সংক্রমণ এবং ল্যাব কর্মীদের মধ্যে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই ঘটনা সর্বাধিক থাকলেও শিশুরাও মেলিওডোসিস দ্বারা সংক্রমিত হয়। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ অস্বাভাবিক হওয়া সত্ত্বেও, বুকের দুধ খাওয়ার মাধ্যমে ম্যাস্টাইটিসে আক্রান্ত মা থেকে তার শিশুর মধ্যে সংক্রমণের একটি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।

 

মেলিওডোসিস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রোগ এবং মানুষের উচ্চ মৃত্যুহারের জন্য দায়ী। এটি ব্যাকটেরেমিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ এবং উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডে কমিউনিটি একুয়ার্ড সেপ্টিসেমিয়ার প্রায় ২০% এর জন্য দায়ী যেখানে প্রতি বছর ২,০০০ থেকে ৩,০০০ নতুন কেস নির্ণয় করা হয়। যদিও মেলিওডোসিস মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ, এই রোগটি ক্রমবর্ধমানভাবে বাংলাদেশ, ভারত, মরিশাস, দক্ষিণ, মধ্য এবং উত্তর আমেরিকা সহ বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশে রিপোর্ট করা হচ্ছে, যা ভৌগোলিক বিস্তার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কারণকে চিহ্নিত করে। অতি সম্প্রতি মিসিসিপির উপসাগরীয় উপকূল থেকে প্রথমবারের মতো জীবাণুটি সনাক্ত করা হয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মেলিওডোসিসের জন্য  'নির্দিষ্ট' দেশ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে মেলিওডোসিস, যার ব্যাপারে পূর্বে খুব কমই ধারণা ছিল, এখন বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ একটি রোগ হিসাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

 

প্রায় এক শতাব্দী আগে শনাক্ত হওয়া এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও, কম রোগ নির্ণয়, উচ্চ মৃত্যুহার এবং ঘনঘন পুনঃসংক্রমণের জন্য বি. সিউডোম্যালেই এখনও একটি "অপ্রতিরোধ্য প্রতিপক্ষ" হিসাবে বিবেচিত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে এর পরিবেশগত উৎস সনাক্ত করতে প্রায় একশ বছর সময় লেগেছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার মাটি থেকে প্রথমবারের মতো জীবাণুটি সনাক্ত করা হয়েছিল। তারপর থেকে, বাংলাদেশকে মেলিওডোসিসের জন্য 'নির্দিষ্ট' দেশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তবে, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে মেলিওডোসিসের প্রথম ঘটনাটি ১৯৬৪ সালে একজন ব্রিটিশ নাবিকের মধ্যে সনাক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১০০ টি মেলিওডোসিসের ঘটনা সনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগ রোগীই বারডেম হাসপাতালে নির্ণয় করা হয়।

 

যেহেতু ৮০% পর্যন্ত মেলিওডোসিস রোগীর এক বা একাধিক অন্তর্নিহিত ঝুঁকির কারণ থাকে, তাই এটি একটি সুযোগসন্ধানী সংক্রমণ হিসাবে বিবেচিত হয়। যারা পূর্বে সুস্থ ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি কম। যক্ষা রোগের জীবাণুর মতো, এই জীবাণুটির লক্ষণ এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগে কয়েক দশক ধরে ম্যাক্রোফেজ এবং অন্যান্য রেটিকুলোএন্ডোথেলিয়াল সিস্টেমে সুপ্ত থাকতে পারে। মেলিওডোসিসের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির কারণ হল ডায়াবেটিস (DM), যা ৫০% এরও বেশি রোগীকে প্রভাবিত করে। অন্যান্য অধিক ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত অ্যালকোহল ব্যবহার (১২-৩৯%), দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ (১২-২৭%), দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (সিকেডি) (১০-২৭%), থ্যালাসেমিয়া (৭%) এবং গ্লুকোকোর্টিকয়েড থেরাপি (৫%)। নিয়মিতভাবে কাদা এবং ভূপৃষ্ঠের পানির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা, যেমন ধান চাষীরা, বিশেষ করে বর্ষাকালে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রেক্ষিতে রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির কারণগুলি হল ডায়াবেটিস (৮৩%), সিকেডি (৪%), উচ্চ রক্তচাপ (৪%), ধূমপান (৬%)। অন্যান্য বিরল কারণের মধ্যে রয়েছে মদ্যপান, ইস্কেমিক হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া।

 

মেলিওডোসিসের লক্ষণ এবং উপসর্গ ব্যাপক ও বৈচিত্রময়, যা বিভিন্ন ধরণের রোগ যেমনঃ যক্ষ্মা বা নিউমোনিয়ার সাথে বিভ্রান্তি করে। যার ফলে এটি "দ্য গ্রেট মিমিকার" নাম অর্জন করেছে। রোগের প্রকাশ নিউমোনিয়া বা স্থানীয় ফোড়া থেকে তীব্র সেপ্টিসেমিয়া পর্যন্ত হতে পারে, এমনকি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ হিসাবেও উপস্থিত হতে পারে। শুধুমাত্র ত্বকের মাধ্যমে সংক্রমণ ছাড়াও, বেশিরভাগ রোগী (সংক্রমণের পথ নির্বিশেষে) ব্যাকটেরেমিয়া, এবং/অথবা নিউমোনিয়া, স্থানীয় ফোড়া নিয়ে উপস্থিত হতে পারে। এদের মধ্যে প্রায় ২০% রোগী সেপ্টিক শকে চলে যায়, যার মৃত্যুহার ৯০% পর্যন্ত হতে পারে। যদিও কোন একটি নির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল লক্ষণ মেলিওডোসিসের জন্য হয়না, ১০০% ক্ষেত্রে জ্বর উপস্থিত থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে তীব্র সেপ্টিসেমিয়া বা বিভিন্ন অঙ্গে স্থানীয় ফোড়া। ৫০% এরও বেশি ক্ষেত্রে স্থানীয় ফোড়া দেখা যায়, তবে সেপ্টিসেমিয়া, আর্থ্রাইটিস, মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই) এবং নিউমোনিয়াও হতে দেখা যায়। বাংলাদেশে ঝুঁকির কারণ হিসেবে ডায়াবেটিস সবচেয়ে বেশি, যা ৯৫% এরও বেশি মেলিওডোসিসের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

 

বি. সিউডোম্যালেই স্বাভাবিক মানব মাইক্রোবায়োটার অংশ নয় এবং যেকোনো স্থানে এর উপস্থিতি রোগ নির্ণয় হিসেবে বিবেচিত হয়। মেলিওডোসিস নির্ণয়ের জন্য কালচার পরীক্ষা এখনও আদর্শ এবং সন্দেহজনক ক্ষেত্রে এ পরীক্ষা সর্বদা অনুসরণ করা উচিত। শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে উপযুক্ত ক্লিনিকাল নমুনা মাইক্রোস্কোপি এবং কালচার পরীক্ষার জন্য মাইক্রোবায়োলজি পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে মেলিওডোসিস সঠিকভাবে নির্ণয়ের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ। থাইল্যান্ড সহ কিছু দেশে, কালচার থেকে জীবাণু নিশ্চিত করার জন্য একটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি-ভিত্তিক ল্যাটেক্স অ্যাগ্লুটিনেশন পরীক্ষা করা হয়। এই ল্যাটেক্স অ্যাগ্লুটিনেশন পরীক্ষাটি সীমিত-সম্পদ ব্যবস্থায় বিশেষভাবে কার্যকর প্রমাণিত হলে বিশ্বব্যাপী এই রোগের নির্ণয় হারকে বাড়িয়ে তুলবে।

 

মেলিওডোসিসের চিকিৎসায় উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক এর দীর্ঘস্থায়ী কোর্স ছাড়া নিরাময় কষ্টসাধ্য। বি. সিউডোম্যালেই পেনিসিলিন, অ্যাম্পিসিলিন, প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন, জেন্টামাইসিন, টোব্রামাইসিন, স্ট্রেপ্টোমাইসিন এবং পলিমিক্সিন সহ বেশ কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে সহজাতভাবেই সক্রিয় নয়। নতুন অ্যান্টিবায়োটিকগুলির মধ্যে এরটাপেনেম, টাইগেসাইক্লিন এবং মক্সিফ্লক্সাসিন বি. সিউডোম্যালেইয়ের ক্লিনিকাল আইসোলেটের বিরুদ্ধে সীমিত ইন ভিট্রো কার্যকলাপ দেখায় এবং ডোরিপেনেমের নূন্যতম প্রতিরোধমূলক ঘনত্ব মেরোপেনেমের মতো। মেলিওডোসিসের চিকিৎসা সাধারণত দুটি পর্যায়ে বিভক্ত: প্রাথমিক পর্যায়ে শিরায় মেরোপেনেম বা সেফটাজিডিম দেয়া হয় প্রায় ২১ দিন (যা সংক্রমণ গুরুতর হলে দীর্ঘায়িত হতে পারে), তারপরে মুখে ওষুধ দিয়ে নির্মূল পর্যায় যেখানে কো-অ্যামোক্সিক্ল্যাভ, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, কো-ট্রাইমক্সাজোল বা ডক্সিসাইক্লিন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সেন্সিটিভিটি পরীক্ষার পর খাওয়ানো হয়। নির্মূল পর্ব সাধারণত ১২-১৬ সপ্তাহ স্থায়ী হয় যেটা কিছু ক্ষেত্রে ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

 

বাংলাদেশে উপাখ্যানগত প্রমাণ এবং কেস রিপোর্টের ভিত্তিতে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে মেলিওডোসিস, যদিও এটি বৃহৎ পরিসরে নির্ণয় করা যায়নি। তবে বর্তমানে দেশের অনেক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মেলিওডোসিসকে একটি প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখেন না। যদিও গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে বার্ষিক প্রায় ১৬৯৩১ টি কেসের পূর্বাভাস পাওয়া যায়, অথচ বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১০০ টিরও কম কেস নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ধারনা এবং প্রকৃত রোগীর সংখ্যার মধ্যে এই বিশাল পার্থক্য সম্ভবত চিকিৎসক এবং মাইক্রোবায়োলজিস্টদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, সেইসাথে অপর্যাপ্ত রোগ নির্ণয়ের ব্যাবস্থা। এই অসচেতনতার একটি প্রধান কারণ হল মেলিওডোসিস এখনও সবচেয়ে অবহেলিত গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগগুলির মধ্যে একটি। এমনকি এটি ডাব্লুএইচও এর অবহেলিত গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগগুলির তালিকায় অন্তর্ভুক্তও নয়। এই মারাত্মক জীবাণু থেকে জীবন বাঁচাতে এই "অবহেলার মধ্যে অবহেলিত" রোগের উপর মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশব্যাপী মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং চিকিৎসকদের পাশাপাশি রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি), ডাব্লুএইচও, জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (এনসিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি তাদের কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে মেলিওডোসিস সনাক্তকরণ, ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিরোধ বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন