কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫ এ ০৮:৫৩ PM

কমিউনিটির বিশ্বাস অর্জন ও বৃদ্ধি করা: বাংলাদেশের বালিয়াকান্দি এলাকার গ্রামীণ সমাজে শিশু-স্বাস্থ্য ও শিশু-মৃত্যু প্রতিরোধ নজরদারি কার্যক্রমে কমিউনিটি স্টেকহোল্ডার এবং জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্তকরণ

কন্টেন্ট: পাতা

মুহাম্মদ ফারুক হুসাইন , এমিলি এস গার্লে , আবদুস সুবান মুল্লা , আফরোজ জাহান , আজিজ আহমেদ , শিখা দত্ত গুপ্তা , সুরুজ আলী , সাজ্জাদ হোসেন খান , তন্ময় সরকার , ডালিয়া ইয়াসমিন , মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন , শামস এল আরেফীন , শাহানা পারভীন ;

আইসিডিডিআর, বি ঢাকা, বাংলাদেশ জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়

 

ভূমিকা:

বাংলাদেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপটের জটিল সংশ্লিষ্টতার কারণে ময়নাতদন্ত করা অত্যন্ত কঠিন। স্বাভাবিক বা কোন রোগজনিত মৃত্যুর জন্যও সম্পূর্ণ ময়নাতদন্ত আমাদের সমাজ মেনে নেয় না।

আইসিডিডিআর,বি আইইডিসিআর এর সহযোগিতায়, রাজবাড়ী জেলার অন্তর্গত বালিয়াকান্দি উপজেলায় গত জানুয়ারি ২০১৭ সাল থেকে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ নজরদারি (যাকে ইংরেজিতে সংক্ষেপে বলা হয় চ্যাম্পস) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মৃতজন্ম নেওয়া এবং ৫ বছরেরে কম বয়সী শিশু মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে শনাক্ত করার লক্ষ্যে চ্যাম্পস মৃতদেহে অতিস্বল্প ক্ষতের মাধ্যমে টিস্যু নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া (যাকে সংক্ষেপে বলে ‘মিটস‘) বাস্তবায়ন করছে। এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ ধরণের সুঁচ ব্যবহার করা হয় যার মাধ্যমে পোস্টমর্টেম নমুনা সংগ্রহ করার পর হিস্টোপ্যাথলজিকাল, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল এবং আণবিক তদন্ত প্রক্রিয়ার দ্বারা একটি উৎকৃষ্ট মানের তথ্য-উপাত্ত তৈরি এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সনাক্ত করা যায়।

এই গবেষণার গবেষকদের অনুরোধক্রমে বাংলাদেশে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের  ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি একটি "ফতোয়া" প্রদান করেছে এই বলে যে, মৃত্যু-পরবর্তীতে সুঁচের মাধ্যমে টিস্যু নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য যদি তা মৃত ব্যক্তির পিতামাতা বা অভিভাবক কর্তৃক কোনরূপ আর্থিক বা বস্তুগত সুবিধার বিনিময় ছাড়া 'স্বেচ্ছায় এবং স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি' সাপেক্ষে হয়, মৃতদেহের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন নিশ্চিত করা হয় এবং দাফন প্রক্রিয়ায় কোনরূপ বিলম্ব না করে সম্পন্ন করা হয়। চ্যাম্পস বাংলাদেশ এই কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুরু থেকেই স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করেছে যাতে ‘মিটস’ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য মৃত শিশুদের পিতামাতা এবং পরিবারের সদস্যদের, কমিউনিটির বাসিন্দাদের এবং ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে 'বিশ্বাস' গড়ে তোলা, শক্তিশালী করা এবং টিকিয়ে রাখা যায়।

 

বাস্তবায়ন এলাকা এবং জনসংখ্যা:

এই কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত এলাকা হলো বালিয়াকান্দি উপজেলা যার আয়তন ২২৯ বর্গ কিলোমিটার এবং অধিকাংশই কৃষিনির্ভর। এটি রাজধানী ঢাকা থেকে আনুমানিক ১৩৩ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এবং এর জনসংখ্যা প্রায়  ২২৬,৩২৩ জন (চ্যাম্পস্্ ডিএসএস ২০২৩)। উচ্চ শিশু মৃত্যুর হারের কারণে বালিয়াকান্দিকে চ্যাম্পস বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত করা হয় এবং মৃত্যুর পর সুঁচের  মাধ্যমে টিস্যু সংগ্রহ প্রক্রিয়া পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য এই এলাকায় পূর্ববর্তী প্রস্তুতিমূলক কিছু কাজ পরিচালনা করা হয়েছিল।

 

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া:

নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য চ্যাম্পস প্রোগ্রাম-এ কমিউনিটির সম্পৃক্ততা কার্যক্রম তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হয়ঃ

ধাপ - ১ঃ মিটস বাস্তবায়নের পূর্বে

চ্যাম্পস কর্মসূচী বাস্তবায়নের একেবারে শুরুতে প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় কমিউনিটির সাথে সংযোগ স্থাপন করা এবং মিটস পদ্ধতিটি তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা জানা এবং শিশু মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণগুলি জানার জন্য তাদের আগ্রহ মূল্যায়ন করা। ২০১৭ সালের জানুয়ারী থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের আলোকে বালিয়াকান্দির সাতটি প্রশাসনিক ইউনিয়নে মোট ১৪টি (সাতটি কমিউনিটির স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের  নেতৃবৃন্দ যেমন প্রাক্তন ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, মসজিদের ইমাম, ধর্মীয়/মাদ্রাসা শিক্ষক, পুরোহিতগণ, গণ্যমাণ্য ব্যক্তি, গ্রাম্য ডাক্তার, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবা বা টীকাদান কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তি এবং সাতটি নির্বাচিত কমিউনিটির সাধারণ সদস্য যেমন ৫ বছরের কম বয়সীর শিশুমৃত্যু ও মৃতজন্মের ইতিহাস আছে এমন ও জীবিত শিশুর পরিবারের সদস্য অর্থাৎ পিতা/মাতা/ দাদা/নানা, বর্তমানে অবসরে থাকা স্কুল/কলেজের শিক্ষক, স্থানীয় দাই এবং গর্ভবতী মায়ের পরিচর্যাকারীদের সাথে) 'শিশু স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যু প্রতিরোধের কমিউনিটি জ্ঞান সংক্রান্ত অংশগ্রহণমূলক অনুসন্ধান' (পিক-চ্যাম্প) কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পিক-চ্যাম্প কর্মশালাগুলিতে সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক গ্রামীণ মূল্যায়ন (পিআরএ) পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল।

‘পিক-চ্যাম্প’ ওয়ার্কশপগুলি সমাপ্ত হওয়ার পরে কমিউনিটির বাসিন্দা এবং কমিউনিটির নেতাদের মধ্যে 'উল্লম্ব বিশ্বাস' (একটি কমিউনিটির সদস্যদের কমিউনিটি পরিচালনা করানো সংস্থাগুলির প্রতি যে আস্থা) তৈরী ও বাড়ানোর জন্য 'উল্লম্ব সম্পৃক্তকরণ' (চিত্র ১) প্রচেষ্টা শুরু করা হয়। সেই লক্ষ্যে, স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং পুরুষ ও মহিলা ইউপি সদস্যসহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ (স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে প্রান্তিক পর্যায়) সদস্যদের নিয়ে আলাদাভাবে একটি করে আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। তাদেরকে চ্যাম্পস- এর উদ্দেশ্য, কার্যক্রম এবং 'ফতোয়া'র আলোকে ইসলামে মৃত্যুর পর টিস্যু নমুনা গ্রহণ-এর অনুমোদন এবং সরকার ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের সহযোগিতা সম্পর্কে সম্যক অবগত করা হয়। 'অনুভূমিক আস্থা' (একটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের একে অপরের প্রতি আস্থা) গড়ে তোলার জন্য উঠোন সভার মাধ্যমে মহিলা বাসিন্দাদের এবং চা স্টল সভার (অনুভূমিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা) মাধ্যমে পুরুষ বাসিন্দাদের অবগত করা হয়েছিল।

ধাপ - ২ঃ হাসপাতালে মিটস বাস্তবায়নের পর

মিটস করার স্থানটি সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে প্রাথমিকভাবে ফরিদপুর জেলার টারশিয়ারি  লেভেল হাসপাতাল (ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) এবং পরবর্তিতে একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে (ডা: জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল) স্থাপিত হয়েছিল যেখানে মিটস বাস্তবায়ন শুরু হয়। এই পর্যায়ে, বালিয়াকান্দিতে নির্দিষ্ট কিছু মুফতি (ইসলাম ধর্মীয় প-িত) এবং ইমাম (ধর্মীয় নেতা) সাহেবদের সাথে প্রদত্ত 'ফতোয়া'-এর ভিত্তিতে ইসলামে ‘মিটস’ পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতার 'উল্লম্ব বিশ্বাস' গড়ে তোলার জন্য দলীয়ভাবে আলাপ-আলোচনা করা হয়।

এই পর্বে, 'কমিউনিটি চ্যাম্পিয়ন'-দের নিয়ে একটি ছোট দল তৈরি করা হয়, যার মধ্যে মৃত পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল যাদের মৃত জন্ম নেওয়া ও মৃত্যু পরবর্তীতে টিস্যু নমুনা নেওয়ার প্রক্রিয়ার সাথে তাৎক্ষণিক ও সরাসরি অভিজ্ঞতা ছিল। এইসকল ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত শিশুর পিতা, দাদা, চাচা/মামা, চাচী/খালা এবং মৃত পরিবারের সদস্যদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা মিটস পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করেছিল।

ধাপ - ৩ঃ কমিউনিটিতে মৃত শিশুর মিটস বাস্তবায়নের পরবর্তীতে

জুন ২০১৮ সালে বাড়িতে কোন শিশুর মৃত্যু হলে তা অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মিটস বাস্তবায়ন কমিউনিটি পর্যায়ে প্রসারিত করা হয়েছিল। এই প্রচেষ্টায়, কমিউনিটি থেকে মৃত জন্ম নেওয়া বা ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার পর চ্যাম্পস টিম মৃত শিশুর বাড়ীতে পৌঁছায়। এই প্রক্রিয়া হাসপাতালে নমুনা নেওয়ার প্রক্রিয়ার থেকে জটিল। বাড়িতে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটলে কমিউনিটির সদস্য, স্থানীয় নেতা, ধর্মীয় নেতা এবং প্রতিবেশীদের একটি বহুমাত্রিক দল উপস্থিত থাকে এবং মিটস-এ অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তটি ‘সম্মিলিত’ হয়। উপরন্তু, ধর্মীয় উদ্বেগগুলি আরও প্রকট হয়ে ওঠে কারণ পরিবারের সদস্যরা সহজেই স্থানীয় ইমামের কাছ থেকে ইসলামে মিটস গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে পরামর্শ নিতে পারে।

 

তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ:

আমরা ‘পিক-চ্যাম্প’ গ্রুপ আলোচনার সময় প্রশ্নের উত্তরসমূহ এবং আলোচনার বিষয়গুলিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিক্রিয়াগুলির উপর নোট নিয়েছি। কিছু প্রতিক্রিয়া ‘সূচী কার্ড’ এবং ‘ফ্লিপ চার্ট’ ব্যবহার করে সংগ্রহ করা হয়েছিল যা পরে সংকলিত হয়েছিল। স্টেকহোল্ডারদের সাথে পরামর্শ বৈঠকের সময় আমরা অংশগ্রহণকারীদের প্রতিক্রিয়া, প্রশ্ন এবং পরামর্শের নোটও রেখেছিলাম। এছাড়াও, স্টেকহোল্ডারদের মিটিং এবং কমিউনিটি মিটিং থেকে কিছু তথ্য নির্দিষ্ট রিপোর্টিং ফরম্যাটে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

 

ফলাফল:

চ্যাম্পস কার্যক্রমের প্রতি কমিউনিটির দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামঞ্জস্যপূর্ণতা

অংশগ্রহণকারীরা সম্মত হন যে, যদিও মিটস প্রক্রিয়া ধর্মীয়ভাবে অনুমোদিত তারপরও ধর্মীয় নেতা এবং কমিউনিটির বাসিন্দাদের মধ্যে যেকোন বিভ্রান্তি দূর করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। উপরন্তু, হিন্দু ধর্মীয় নেতারা বলেছেন যে মিটস প্রক্রিয়া হিন্দু ধর্মে নিষিদ্ধ নয়। কিছু অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বাস করেছিলেন যে, যে সকল পিতামাতা এক বা একাধিক সন্তানকে হারিয়েছেন (মৃতজন্ম বা নবজাতকের মৃত্যু) তারা তাদের সন্তান কেন মারা গেল তা জানতে আগ্রহী হবেন এবং মিটস পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করতে আরও অধিক ইচ্ছুক হবেন।

অংশগ্রহণকারীরা টিস্যু নমুনা নেওয়ার ক্ষেত্রে মৃতদেহ থেকে কোন অঙ্গ অপসারণ বা চুরি করা হয়েছে এমন ভুল ধারণা বা গুজব সৃষ্টি হওয়া সম্পর্কে তাদের চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ করেছেন। তারা মিটস-এ অংশগ্রহণের কারণে দাফন/দাহন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কেও জানতে চেয়েছিলেন। ‘পিক-চ্যাম্প’-এর ফলাফল আমাদেরকে জানতে দেয় যে সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে  মিটস্ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন সম্ভব। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীগণ আরও পরামর্শ দেন যে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে চ্যাম্পস্ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ও মিটস প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও ধারাণা দিতে হবে। 

এছাড়াও, তারা চ্যাম্পস্ টীমকে পরবর্তীতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে, উঠানসমূহে বা চায়ের দোকানে কোন সেশন বা মিটিং আয়োজনে সহায়তা করতে সম্মতি দিয়েছেন।

তথ্য আদান-প্রদান এবং বিশ্বাস স্থাপন

জনগোষ্ঠীর সমাবেশ চ্যাম্পস টিমের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে যেখানে সমাজের সাধারণ বাসিন্দাদের সাথে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রাদন করা যায় এবং তাদের জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ সহ মিটস পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা যায়। কমিউনিটিকে যুক্তকরণ দলটি অংশগ্রহণকারীদের জানিয়েছিল যে চ্যাম্পস একটি টোল-ফ্রি কল-ইন সেন্টার  পরিষেবা প্রদান করে যার মাধ্যমে যোগ্য চিকিৎসকরা গর্ভবতী মহিলাদের এবং অসুস্থ শিশুদের স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করে। দেখা গেছে যে খুব কম সংখ্যক মৃত শিশুর পরিবার 'কমিউনিটি চ্যাম্পিয়নদের' সাথে মিটস পদ্ধতি নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলার প্রস্তাব গ্রহণ করে।

অবিশ্বাস বা ভুল ব্যাখ্যার জবাব

জনগোষ্ঠীকে কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য গৃহিত উপায় এবং প্রক্রিয়াসমূহ চ্যাম্পস বাস্তবায়ন সম্পর্কে কমিউনিটির ভুল বোঝাবুঝি বা ভ্রান্ত ধারণাগুলি মোকাবেলায় কার্যকরী ছিল। এ ধরণের ভ্রান্ত ধারণাসমূহের একটি উদাহরন হলো টিস্যু নমুনা নেওয়ার পর সুঁচ ফোটানোর  স্থান থেকে রক্ত চুইয়ে বের হওয়া কে একটি 'নবজাতক শিশুকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হত্যা' (টিসু নমুনা নেওয়ার জন্য, যখন মৃতদেহ বাড়ীতে আনা হয় এবং গোসল করানোর জন্য প্রস্তুত করা হয় তখন পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহ থেকে রক্ত চুইয়ে পড়া দেখতে পান যার কারণে তারা দ্বিধান্বিতভাবে মনে করেন যে শিশুটি হয়তো মাত্র কিছুক্ষণ আগে মারা গেছে) বা মৃত শিশুর 'অঙ্গ চুরি' করা (অন্য কোন শিশুর শরীরে স্থাপন বা বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে)। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে, প্রকল্পের অন্যান্য সেক্টরের বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যদের সাথে নিয়ে ঐ সকল পরিবারের সদস্যদের এবং স্থানীয় নেতাদের সাথে দেখা করে ভুল ধারণা বা অপব্যাখ্যার সঠিক তথ্য প্রদান করা হয়েছিল এবং এই জাতীয় সমস্যাগুলি সময়ের সাথে ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে। এইভাবে কমিউনিটি সভা, কমিউনিটির উদ্বেগ/চিন্তা, মন্তব্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজন অনুসারে সেই উদ্বেগগুলি সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

আলোচনা:

কমিউনিটিকে চ্যাম্পস কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্তকরণে গৃহিত বিভিন্ন প্রক্রিয়াগুলি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রবেশ করা, এর উদ্দেশ্য জানানো, কমিউনিটির নেতাদের এবং সাধারণ বাসিন্দাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ বৃদ্ধি, স্থানীয় সংস্থা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে অংশীদারিত্বের বিকাশ, বিশ্বাস স্থাপন, শক্তিশালীকরণ এবং বজায় রাখার জন্য সহায়তা করে।

কমিউনিটিতে 'প্রবেশ'

'বিশ্বাস' তৈরীর প্রথম ধাপ ছিল কমিউনিটির সাথে প্রাথমিক সম্পর্ক স্থাপন। ‘পিক-চ্যাম্প’ কর্মশালাগুলি প্রথমবারের মতো নির্বাচিত কমিউনিটির নেতা এবং সদস্যদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের একটি চমৎকার সুযোগ প্রদান করেছে। চ্যাম্পস দলের সদস্য এবং কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন কথোপকথন ‘শিশুদের মধ্যে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মৃত্যু পরবর্তী নমুনা সংগ্রহ পদ্ধতি’ নিয়ে আলোচনা ও সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য কমিউনিটির মধ্যে 'প্রথম প্রবেশ' হিসাবে কাজ করেছে। কমিউনিটির মধ্যে প্রবেশের প্রাথমিক আস্থার জন্য প্রদানকৃত 'ফতোয়া' ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বস্ত একটি দলিল।

'বিশ্বাস' অর্জন

বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সাথে চ্যাম্পস-এর অফিসিয়াল সম্পর্ক যেমন আইইডিসিআর, বংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (এফএমসিএইচ) এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (বিইউএইচসি) 'উল্লম্ব বিশ্বাস' অর্জনে দলকে সহায়তা করেছিল। চ্যাম্পস-এর লক্ষ্য, কার্যক্রম এবং মিটস পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাপকভাবে কমিউনিটিকে এ বিষয়ে অবগত ও তথ্য প্রদান করে 'আনুভূমিক বিশ্বাস' গড়ে তোলা হয়। মৃত শিশুর শরীর থেকে সুঁচের মাধ্যমে টিস্যু নমুনা গ্রহণে মৃত শিশুদের পিতামাতা এবং পরিবারের সদস্যদের সম্মতি চ্যাম্পস টিম এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্থাপিত 'বিশ্বাস' এর প্রমাণ দেয় এবং পরবর্তীতে সময়ের সাথে মিটস পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।

বিশ্বাসকে শক্তিশালী করা এবং টিকিয়ে রাখা

স্থাপিত বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার জন্য 'স্বচ্ছতা' প্রয়োজন অর্থাৎ কমিউনিটিকে কি বলা হচ্ছে এবং তাদের কী ধরণের অভিজ্ঞতা হচ্ছে। অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলিকে স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের জানানো হয়, তাদের পরামর্শ নেয়া হয়, যা চ্যাম্পস-এর কাজের 'স্বচ্ছতা' হিসাবে স্বীকৃত এবং ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা সমর্থিত হয়েছে। 'কমিউনিটি চ্যাম্পিয়ন' পদ্ধতি চ্যাম্পস কার্যক্রমের বোধগম্যতা বজায় রেখে 'অনুভূমিক বিশ্বাস' অর্জনের একটি প্রক্রিয়া হিসাবে কাজ করে। কমিউনিটিকে যুক্তকরণের জন্য একাধিক কার্যক্রম যেমন উঠান বৈঠক, চায়ের দোকানে সভা, ইউনিয়ন পরিষদের সাথে পরামর্শ, ধর্মীয় নেতা এবং মসজিদগুলিতে আলোচনা "বিশ্বাস" সংরক্ষণে সহায়তা করেছে।

 

উপসংহার

একটি সংবেদনশীল প্রকল্পের শুরু থেকে স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্তকরণ উক্ত কমিউনিটিকে প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সমাজে প্রবেশাধিকারের জন্য অংশগ্রহণমূলক কর্মশালাগুলো বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ কমিউনিটির বিশ্বাস সৃষ্টিতে খুবই সহায়ক ছিল। অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাসিন্দাদের ভুল চিন্তার বিকাশ বা ব্যাখ্যা যা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে তার সঠিক উত্তর স্থাপিত বিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 'উল্লম্ব' এবং 'অনুভূমিক' কমিউনিটির সম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া অবশেষে অর্জিত বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন